প্যাথলজি - ২০২৪। তয় বর্ষ।

প্যাথলজি - ২০২৪

তৃতীয় বর্ষ : বিষয় কোড: ৩০৬  
পূর্ণমান: ৭৫,  সময়: ৩ ঘন্টা

[দ্রষ্টব্য: যে কোন পাঁচটি প্রশ্নের উত্তর দাও। সকল প্রশ্নের মান সমান।

১। (ক) প্যাথলজির সংজ্ঞা দাও। 
ইহার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা কর।

প্যাথলজির সংজ্ঞা
প্যাথলজি (Pathology) হলো চিকিৎসাবিজ্ঞানের সেই শাখা, যেখানে রোগের কারণ, উৎপত্তি, বিকাশ, গঠনগত ও কার্যগত পরিবর্তন এবং রোগের ফলাফল সম্পর্কে আলোচনা করা হয়।
অর্থাৎ, রোগ কীভাবে সৃষ্টি হয় এবং শরীরে কী পরিবর্তন ঘটায়—তা নিয়ে যে বিজ্ঞান আলোচনা করে তাকে প্যাথলজি বলে।

প্যাথলজির প্রয়োজনীয়তা
১। রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করে।
২। রোগের কারণ ও প্রকৃতি জানতে সাহায্য করে।
৩। সঠিক চিকিৎসা নির্বাচন করতে সাহায্য করে।
৪। রোগের ভবিষ্যৎ ফলাফল (Prognosis) নির্ধারণে সহায়ক।
৫। রোগ প্রতিরোধ ও গবেষণার ভিত্তি প্রদান‌~$করে।

(খ) তরুণ প্রদাহের কারণসমূহ লিখ।

তরুণ প্রদাহ (Acute Inflammation) হলো শরীরের হঠাৎ ও স্বল্পকালীন প্রতিরক্ষামূলক প্রতিক্রিয়া।

তরুণ প্রদাহের কারণসমূহ :
১। জীবাণু সংক্রমণ — ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস, ছত্রাক ইত্যাদি।
২। আঘাত বা ট্রমা — কাটা, পোড়া, আঘাত পাওয়া।
৩। রাসায়নিক পদার্থ — এসিড, ক্ষার বা বিষাক্ত পদার্থ।
৪। তাপ ও শীতের প্রভাব — অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা।
৫। এলার্জি বা অতিসংবেদনশীলতা।
৬। মৃত টিস্যু বা বিদেশি বস্তু শরীরে প্রবেশ।

(গ) তরুণ ও পুরাতন প্রদাহের মধ্যে পার্থক্য উল্লেখ কর।

তরুণ প্রদাহ (Acute)

১। হঠাৎ শুরু হয়
২। স্বল্প সময় স্থায়ী হয়
৩। নিউট্রোফিল বেশি থাকে
৪। লক্ষণ তীব্র হয়
৫। দ্রুত আরোগ্য লাভ হতে পারে
৬। উদাহরণ: ফোঁড়া, নিউমোনিয়া

পুরাতন প্রদাহ (Chronic)
১। ধীরে ধীরে শুরু হয়
২। দীর্ঘদিন স্থায়ী হয়
৩। লিম্ফোসাইট ও ম্যাক্রোফেজ বেশি থাকে
৪। লক্ষণ তুলনামূলক কম তীব্র
৫। টিস্যুর ক্ষয় ও ফাইব্রোসিস দেখা যায়
৬। উদাহরণ: যক্ষা, রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস

২। (ক) ম্যালিগনেন্ট টিউমার বলতে কী বুঝ? ইহার বৈশিষ্ট্য উল্লেখ কর।

ম্যালিগনেন্ট টিউমারের সংজ্ঞা
যে টিউমার দ্রুত বৃদ্ধি পায়, আশেপাশের টিস্যুতে অনুপ্রবেশ করে ধ্বংস সাধন করে এবং রক্ত বা লসিকানালীর মাধ্যমে শরীরের দূরবর্তী স্থানে ছড়িয়ে পড়তে পারে, তাকে ম্যালিগনেন্ট টিউমার (Malignant Tumour) বলে। একে সাধারণভাবে ক্যান্সার বলা হয়।

ম্যালিগনেন্ট টিউমারের বৈশিষ্ট্য :
১। দ্রুত ও অনিয়ন্ত্রিতভাবে বৃদ্ধি পায়।
২। পার্শ্ববর্তী টিস্যুতে অনুপ্রবেশ (Invasion) করে।
৩। রক্ত বা লসিকার মাধ্যমে দূরবর্তী স্থানে বিস্তার (Metastasis) ঘটায়।
৪। কোষগুলো অপরিণত ও অস্বাভাবিক আকৃতির হয় (Anaplasia)।
৫। পুনরায় হওয়ার (Recurrence) প্রবণতা বেশি থাকে।
৬। চিকিৎসা না করলে রোগীর মৃত্যু ঘটাতে পারে।

২। (খ) বিনাইন ও ম্যালিগনেন্ট টিউমারের মধ্যে পার্থক্য লিখ।


বিনাইন টিউমার (Benign)
১। ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়।
২। সুসীমাবদ্ধ ও আবরণযুক্ত (Encapsulated) হয়।
৩। পার্শ্ববর্তী টিস্যুতে অনুপ্রবেশ করে না।
৪। মেটাস্ট্যাসিস হয় না।
৫। কোষগুলো স্বাভাবিক কোষের মতো পরিণত হয়।
৬। অস্ত্রোপচারের পর সাধারণত পুনরাবৃত্তি হয় না।
৭। সাধারণত প্রাণঘাতী নয়।

ম্যালিগনেন্ট টিউমার (Malignant)
১। দ্রুত বৃদ্ধি পায়।
২। সুসীমাবদ্ধ নয় এবং আবরণ থাকে না।
৩। পার্শ্ববর্তী টিস্যুতে অনুপ্রবেশ করে।
৪। মেটাস্ট্যাসিস ঘটে।
৫। কোষগুলো অপরিণত ও অস্বাভাবিক হয়।
৬। পুনরাবৃত্তির সম্ভাবনা বেশি।
৭। চিকিৎসা না করলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

অথবা,

বিনাইন ও ম্যালিগন্যান্ট টিউমারের পার্থক্য:

বিনাইন টিউমার
১. বিনাইন টিউমারে কোষের আকৃতি স্বাভাবিক থাকে।
২. ইহার নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন স্বাভাবিক।
৩. ইহার বৃদ্ধি মন্থর।
৪. কোষ বিভাজন- মাইটোসিস হয় না।
৫. ইহাতে হেমোরেজ ও নেক্রোসিস সামান্য পরিমাণে হতে পারে বা নাও হতে পারে।
৬. এ টিউমার ক্যাপসুল দ্বারা আবৃত।
৭. ইহার স্থানান্তরণ হয় না।
৮. ইহার ভবিষ্যৎ পরিণতি রোগীর মৃত্যু হয় না।

ম্যালিগন্যান্ট টিউমার
১ ম্যালিগন্যান্ট টিউমারে কোষের আকৃতি অস্বাভাবিক থাকে।
২ ইহার নিউক্লিয়াসের পরিবর্তন অস্বাভাবিক, হাইপারক্রোমিক।
৩. ইহার বৃদ্ধি দ্রুত।
৪. কোষ বিভাজন - মাইটোসিস হয়।
৫. ইহাতে হেমোরেজ ও নেক্রোসিস প্রচুর পরিমানে হয়।
৬. এ টিউমার ক্যাপসুল দ্বারা আবৃতবিহীন।
৭. ইহার স্থানান্তরণ হয়।
৮. ইহার ভবিষ্যৎ পরিণতি রোগীর মৃত্যু হয়।

২। (গ) স্তন টিউমারের কারণগুলো লিখ।

স্তন টিউমারের কারণসমূহ :

১। বংশগত কারণ — পরিবারে স্তন ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
২। হরমোনজনিত কারণ — দীর্ঘদিন ইস্ট্রোজেনের প্রভাব।
৩। বয়স বৃদ্ধি — বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
৪।  ঋতুস্রাব - অল্প বয়সে ঋতুস্রাব শুরু হওয়া এবং দেরিতে মেনোপজ হওয়া।
৫। সন্তান না হওয়া বা প্রথম সন্তান দেরিতে জন্ম দেওয়া।
৬। স্থূলতা:  স্থূলতা (Obesity) এবং চর্বিযুক্ত খাদ্য গ্রহণ।
৭। রেডিয়েশনের সংস্পর্শে আসা।
৮। ধূমপান ও অ্যালকোহল সেবন ঝুঁকি বৃদ্ধি করতে পারে।

৩। (ক) থ্রম্বোসিস (Thrombosis) কী? এর কারণগুলো উল্লেখ কর। (৫ নম্বর)

থ্রম্বোসিস (Thrombosis) কী?

থ্রম্বোসিস হলো জীবিত অবস্থায় হৃদপিণ্ড বা রক্তনালীর অভ্যন্তরে রক্ত জমাট (Thrombus) বাঁধার প্রক্রিয়া, যা রক্তপ্রবাহকে আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে বাধাগ্রস্ত করে।

থ্রম্বোসিসের কারণ (Virchow's Triad)।

থ্রম্বোসিসের প্রধান ৩টি কারণ হলো—

১. Endothelial injury (রক্তনালীর এন্ডোথেলিয়ামের ক্ষতি)।
-- আঘাত
-- অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস
-- প্রদাহ (Vasculitis)
-- উচ্চ রক্তচাপ

২. Abnormal blood flow (রক্তপ্রবাহের অস্বাভাবিকতা)

-- রক্তের স্থবিরতা (Stasis),
-- অশান্ত প্রবাহ (Turbulence),
-- দীর্ঘদিন শয্যাশায়ী থাকা,
-- ভ্যারিকোজ ভেইন,

৩. Hypercoagulability (রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতা বৃদ্ধি)।

-- গর্ভাবস্থা
-- ক্যান্সার
-- জন্মগত clotting disorder
-- মুখে খাওয়ার গর্ভনিরোধক বড়ি
-- ধূমপান

(খ) থ্রম্বোসিসের ধাপসমূহ লিখ। (৫ নম্বর)

উত্তর : থ্রম্বোসিস গঠনের ধাপসমূহ—
১. এন্ডোথেলিয়ামের ক্ষতি (Endothelial injury)
২. প্লেটলেটের সংযুক্তি (Platelet adhesion)
৩. প্লেটলেট সক্রিয়করণ (Platelet activation)
৪. প্লেটলেট জমাট বা Aggregation
৫. কোয়াগুলেশন ক্যাসকেড সক্রিয় হয়ে ফাইব্রিন তৈরি (Fibrin formation)
৬. ফাইব্রিন ও রক্তকণিকা মিলে স্থায়ী থ্রম্বাস (Stable thrombus) তৈরি।

(গ) থ্রম্বাস (Thrombus) ও এমবোলাস (Embolus)-এর মধ্যে পার্থক্য লিখ। (৫ নম্বর)

থ্রম্বাস (Thrombus)
- রক্তনালীর ভিতরে তৈরি হওয়া রক্তের জমাট।
- যেখানে তৈরি হয় সেখানেই লেগে থাকে।
- সাধারণত রক্ত জমাট থেকেই সৃষ্টি হয়।
- স্থানীয়ভাবে রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে।
- উদাহরণ: Deep vein thrombosis (DVT)।

এমবোলাস (Embolus)
- রক্তপ্রবাহে ভেসে চলা কোনো কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থ। 
- এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে আটকে যায়।

- অধিকাংশ ক্ষেত্রে থ্রম্বাসের অংশ ছিঁড়ে তৈরি হয়; এছাড়া চর্বি, বায়ু, অ্যামনিওটিক তরলও হতে পারে।
- দূরবর্তী স্থানে গিয়ে রক্তনালী বন্ধ করে দেয়।
- উদাহরণ: Pulmonary embolism (PE)।


৪। (ক) গ্যাংগ্রিনের সংজ্ঞা ও কারণসমূহ লিখ।

উত্তর :  (ক) গ্যাংগ্রিনের সংজ্ঞা ও কারণসমূহ : 

গ্যাংগ্রিন (Gangrene)-এর সংজ্ঞা

দেহের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে টিস্যুর মৃত্যু (Necrosis) ঘটে এবং পরবর্তীতে পচনশীল জীবাণুর সংক্রমণ যুক্ত হলে তাকে গ্যাংগ্রিন (Gangrene) বলে।

কারণসমূহ

১. ধমনীতে রক্ত চলাচল বন্ধ (Arterial occlusion)
২. থ্রম্বোসিস (Thrombosis)
৩. এম্বোলিজম (Embolism)
৪. ডায়াবেটিস মেলিটাস
৫. গুরুতর আঘাত বা Crush injury
৬. পোড়া বা Frostbite
৭. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (বিশেষত Clostridium)
৮. দীর্ঘদিন চাপজনিত ক্ষত (Pressure sore)


৪। (খ) গ্যাগ্রিনের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।

উত্তর :  (খ) গ্যাংগ্রিনের প্রকারভেদ : 

১. Dry Gangrene

  • রক্ত সরবরাহ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়।

  • সাধারণত পায়ের আঙুলে দেখা যায়।

  • অংশ শুকিয়ে কালো হয়ে যায়।

  • সংক্রমণ কম থাকে।

২. Wet Gangrene

  • রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে সংক্রমণ যুক্ত হয়।

  • আক্রান্ত অংশ ফুলে যায় ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়।

  • দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

৩. Gas Gangrene

  • Clostridium ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।

  • টিস্যুর মধ্যে গ্যাস তৈরি হয়।

  • জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।


৪। (গ) ড্রাই গ্যাংগ্রিন ও ময়েস্ট গ্যাংগ্রিনের মধ্যে পার্থক্যসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তর :  (গ) Dry ও Wet Gangrene-এর পার্থক্য

Dry GangreneWet Gangrene
ধীরে হয়দ্রুত হয়
সংক্রমণ কমসংক্রমণ বেশি
শুকনো ও কালোভেজা ও ফুলে যায়
দুর্গন্ধ কমদুর্গন্ধ বেশি
বিষক্রিয়া কমবিষক্রিয়া বেশি
সীমারেখা স্পষ্টসীমারেখা অস্পষ্ট

৫। (ক) প্যারাসাইটের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ লিখ।

উত্তর : (ক) প্যারাসাইটের শ্রেণীবিভাগ (উদাহরণসহ):

১. Protozoa

উদাহরণঃ Entamoeba histolytica, Plasmodium vivax

২. Helminths (কৃমি)

(ক) Nematode

  • Ascaris lumbricoides

(খ) Cestode

  • Taenia solium

(গ) Trematode

  • Fasciola hepatica

৩. Arthropods

  • Mosquito

  • Louse

  • Tick


৫। (খ) হুক ওয়ার্মের জীবন চক্র বর্ণনা কর।

উত্তর :  (খ) Hookworm-এর জীবনচক্র :

১. ডিম মলের সঙ্গে বাইরে বের হয়।
২. মাটিতে Larva তৈরি হয়।
৩. Filariform larva সংক্রমণক্ষম হয়।
৪. খালি পায়ের ত্বক ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে।
৫. রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে যায়।
৬. ট্রাকিয়া হয়ে গিলে ফেলা হয়।
৭. ক্ষুদ্রান্ত্রে পূর্ণবয়স্ক কৃমি হয়।
৮. স্ত্রী কৃমি ডিম দেয়।
৯. ডিম মলের সঙ্গে বের হয়ে পুনরায় জীবনচক্র শুরু করে।


৫। (গ) বৈজ্ঞানিক নামসহ পাঁচটি কৃমির নাম লিখ। 

উত্তর :  (গ) পাঁচটি কৃমির বৈজ্ঞানিক নাম

সাধারণ নামবৈজ্ঞানিক নাম
গোলকৃমিAscaris lumbricoides
হুকওয়ার্মAncylostoma duodenale
পিনওয়ার্মEnterobius vermicularis
ফিতাকৃমিTaenia solium
চাবুক কৃমিTrichuris trichiura

৬। (ক) হাইপারপ্লাসিয়া ও মেটাপ্লাসিয়া মধ্যে পার্থক্য লিখ।

উত্তর :   (ক) Hyperplasia ও Metaplasia-এর পার্থক্য :

HyperplasiaMetaplasia
কোষের সংখ্যা বৃদ্ধিএক ধরনের পরিণত কোষ অন্য ধরনের কোষে পরিবর্তিত হয়
কোষের ধরন পরিবর্তন হয় নাকোষের ধরন পরিবর্তিত হয়
সাধারণত শারীরবৃত্তীয় বা রোগগতদীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনায় ঘটে
ক্যান্সারের ঝুঁকি কমক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে

(খ) হাইপারপ্লাসিয়ার কারণসমূহ লিখ।

উত্তর :   (খ) Hyperplasia-এর কারণসমূহ :

১. হরমোনের প্রভাব
২. বৃদ্ধি-উদ্দীপক (Growth factors)
৩. দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
৪. ক্ষত নিরাময়
৫. অতিরিক্ত কাজের চাপ
৬. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ (যেমন HPV)


(গ) নেক্রোসিসের ভাবিফল উল্লেখ কর।

উত্তর :  (গ) Necrosis-এর ভাবিফল (পরিণতি)

১. সম্পূর্ণ আরোগ্য
২. Fibrosis (দাগ সৃষ্টি)
৩. Calcification
৪. Cyst তৈরি
৫. Gangrene
৬. অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস
৭. মৃত্যু (গুরুতর ক্ষেত্রে)


৭। (ক) ইডিমা কি? ইডিমার প্যাথজেনেসিটি বর্ণনা কর।

উত্তর : (ক) ইডিমা কী? এর Pathogenesis :

সংজ্ঞা

টিস্যুর আন্তঃকোষীয় স্থানে অতিরিক্ত তরল জমাকে Edema বলে।

Pathogenesis

১. কৈশিক রক্তচাপ বৃদ্ধি
২. প্লাজমা অনকোটিক চাপ হ্রাস
৩. কৈশিকের পারমিয়াবিলিটি বৃদ্ধি
৪. লিম্ফ প্রবাহে বাধা
৫. সোডিয়াম ও পানি জমে যাওয়া


 ৭। (খ) হেমোরেজের ক্লিনিক্যাল ফিচার বর্ণনা কর।

উত্তর :  (খ) Hemorrhage-এর Clinical Features :

১. রক্তপাত
২. দুর্বলতা
৩. মাথা ঘোরা
৪. ফ্যাকাশে ভাব
৫. দ্রুত নাড়ি
৬. নিম্ন রক্তচাপ
৭. ঠান্ডা ঘাম
৮. শক (Severe hemorrhage)


৭। (গ) হেমোরেজের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা কর।

উত্তর :  (গ) Hemorrhage-এর চিকিৎসা

১. রক্তপাত বন্ধ করা
২. চাপ দিয়ে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ
৩. ব্যান্ডেজ বা টুর্নিকেট (প্রয়োজনে)
৪. IV Fluid প্রদান
৫. Blood transfusion
৬. অক্সিজেন
৭. প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার
৮. রক্তপাতের মূল কারণের চিকিৎসা


৮। সংক্ষেপে লিখ। 
(ক) এইডস 
(খ) ফাংগাস
 (গ) ইস্কিমিয়া
 (ঘ) সেল ইনজুরি
 (৬) টক্সিমিয়া।

উত্তর : সংক্ষেপে --

(ক) AIDS

Acquired Immunodeficiency Syndrome (AIDS) হলো Human Immunodeficiency Virus (HIV) দ্বারা সৃষ্ট রোগ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে। এটি যৌনসংসর্গ, দূষিত রক্ত, সূঁচ এবং মা থেকে শিশুর মধ্যে ছড়ায়।


(খ) Fungus

ফাঙ্গাস হলো ইউক্যারিওটিক অণুজীব, যা ত্বক, নখ, চুল ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। উদাহরণ: Candida albicans, Aspergillus fumigatus


(গ) Ischemia

কোনো টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়াকে Ischemia বলে। প্রধান কারণ হলো থ্রম্বোসিস, এম্বোলিজম ও অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস।


(ঘ) Cell Injury

শারীরিক, রাসায়নিক, জীবাণু, অক্সিজেনের অভাব বা বিষাক্ত পদার্থের কারণে কোষের গঠন ও কার্যকারিতার ক্ষতিকে Cell Injury বলে। এটি Reversible বা Irreversible হতে পারে।


(ঙ) Toxemia

রক্তে ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) উপস্থিত হয়ে সারা শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করলে তাকে Toxemia বলে। এর ফলে জ্বর, দুর্বলতা, নিম্ন রক্তচাপ এবং শক হতে পারে।

------*-***-*-------
>Share by:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন


Make a comments as guest/by name or from your facebook:


Make a comment by facebook:
নবীনতর পূর্বতন