৪। (ক) গ্যাংগ্রিনের সংজ্ঞা ও কারণসমূহ লিখ।
উত্তর : (ক) গ্যাংগ্রিনের সংজ্ঞা ও কারণসমূহ :
গ্যাংগ্রিন (Gangrene)-এর সংজ্ঞা
দেহের কোনো অংশে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে টিস্যুর মৃত্যু (Necrosis) ঘটে এবং পরবর্তীতে পচনশীল জীবাণুর সংক্রমণ যুক্ত হলে তাকে গ্যাংগ্রিন (Gangrene) বলে।
কারণসমূহ
১. ধমনীতে রক্ত চলাচল বন্ধ (Arterial occlusion)
২. থ্রম্বোসিস (Thrombosis)
৩. এম্বোলিজম (Embolism)
৪. ডায়াবেটিস মেলিটাস
৫. গুরুতর আঘাত বা Crush injury
৬. পোড়া বা Frostbite
৭. ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ (বিশেষত Clostridium)
৮. দীর্ঘদিন চাপজনিত ক্ষত (Pressure sore)
৪। (খ) গ্যাগ্রিনের প্রকারভেদ বর্ণনা কর।
উত্তর : (খ) গ্যাংগ্রিনের প্রকারভেদ :
১. Dry Gangrene
রক্ত সরবরাহ ধীরে ধীরে বন্ধ হয়।
সাধারণত পায়ের আঙুলে দেখা যায়।
অংশ শুকিয়ে কালো হয়ে যায়।
সংক্রমণ কম থাকে।
২. Wet Gangrene
রক্ত সরবরাহ হঠাৎ বন্ধ হয়ে সংক্রমণ যুক্ত হয়।
আক্রান্ত অংশ ফুলে যায় ও দুর্গন্ধযুক্ত হয়।
দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
৩. Gas Gangrene
Clostridium ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণে হয়।
টিস্যুর মধ্যে গ্যাস তৈরি হয়।
জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজন।
৪। (গ) ড্রাই গ্যাংগ্রিন ও ময়েস্ট গ্যাংগ্রিনের মধ্যে পার্থক্যসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তর : (গ) Dry ও Wet Gangrene-এর পার্থক্য
| Dry Gangrene | Wet Gangrene |
|---|---|
| ধীরে হয় | দ্রুত হয় |
| সংক্রমণ কম | সংক্রমণ বেশি |
| শুকনো ও কালো | ভেজা ও ফুলে যায় |
| দুর্গন্ধ কম | দুর্গন্ধ বেশি |
| বিষক্রিয়া কম | বিষক্রিয়া বেশি |
| সীমারেখা স্পষ্ট | সীমারেখা অস্পষ্ট |
৫। (ক) প্যারাসাইটের শ্রেণিবিভাগ উদাহরণসহ লিখ।
উত্তর : (ক) প্যারাসাইটের শ্রেণীবিভাগ (উদাহরণসহ):
১. Protozoa
উদাহরণঃ Entamoeba histolytica, Plasmodium vivax
২. Helminths (কৃমি)
(ক) Nematode
Ascaris lumbricoides
(খ) Cestode
Taenia solium
(গ) Trematode
Fasciola hepatica
৩. Arthropods
Mosquito
Louse
Tick
৫। (খ) হুক ওয়ার্মের জীবন চক্র বর্ণনা কর।
উত্তর : (খ) Hookworm-এর জীবনচক্র :
১. ডিম মলের সঙ্গে বাইরে বের হয়।
২. মাটিতে Larva তৈরি হয়।
৩. Filariform larva সংক্রমণক্ষম হয়।
৪. খালি পায়ের ত্বক ভেদ করে শরীরে প্রবেশ করে।
৫. রক্তের মাধ্যমে ফুসফুসে যায়।
৬. ট্রাকিয়া হয়ে গিলে ফেলা হয়।
৭. ক্ষুদ্রান্ত্রে পূর্ণবয়স্ক কৃমি হয়।
৮. স্ত্রী কৃমি ডিম দেয়।
৯. ডিম মলের সঙ্গে বের হয়ে পুনরায় জীবনচক্র শুরু করে।
৫। (গ) বৈজ্ঞানিক নামসহ পাঁচটি কৃমির নাম লিখ।
উত্তর : (গ) পাঁচটি কৃমির বৈজ্ঞানিক নাম
| সাধারণ নাম | বৈজ্ঞানিক নাম |
|---|---|
| গোলকৃমি | Ascaris lumbricoides |
| হুকওয়ার্ম | Ancylostoma duodenale |
| পিনওয়ার্ম | Enterobius vermicularis |
| ফিতাকৃমি | Taenia solium |
| চাবুক কৃমি | Trichuris trichiura |
৬। (ক) হাইপারপ্লাসিয়া ও মেটাপ্লাসিয়া মধ্যে পার্থক্য লিখ।
উত্তর : (ক) Hyperplasia ও Metaplasia-এর পার্থক্য :
| Hyperplasia | Metaplasia |
|---|---|
| কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি | এক ধরনের পরিণত কোষ অন্য ধরনের কোষে পরিবর্তিত হয় |
| কোষের ধরন পরিবর্তন হয় না | কোষের ধরন পরিবর্তিত হয় |
| সাধারণত শারীরবৃত্তীয় বা রোগগত | দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনায় ঘটে |
| ক্যান্সারের ঝুঁকি কম | ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি হতে পারে |
(খ) হাইপারপ্লাসিয়ার কারণসমূহ লিখ।
উত্তর : (খ) Hyperplasia-এর কারণসমূহ :
১. হরমোনের প্রভাব
২. বৃদ্ধি-উদ্দীপক (Growth factors)
৩. দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ
৪. ক্ষত নিরাময়
৫. অতিরিক্ত কাজের চাপ
৬. ভাইরাসজনিত সংক্রমণ (যেমন HPV)
(গ) নেক্রোসিসের ভাবিফল উল্লেখ কর।
উত্তর : (গ) Necrosis-এর ভাবিফল (পরিণতি)
১. সম্পূর্ণ আরোগ্য
২. Fibrosis (দাগ সৃষ্টি)
৩. Calcification
৪. Cyst তৈরি
৫. Gangrene
৬. অঙ্গের কার্যক্ষমতা হ্রাস
৭. মৃত্যু (গুরুতর ক্ষেত্রে)
৭। (ক) ইডিমা কি? ইডিমার প্যাথজেনেসিটি বর্ণনা কর।
উত্তর : (ক) ইডিমা কী? এর Pathogenesis :
সংজ্ঞা
টিস্যুর আন্তঃকোষীয় স্থানে অতিরিক্ত তরল জমাকে Edema বলে।
Pathogenesis
১. কৈশিক রক্তচাপ বৃদ্ধি
২. প্লাজমা অনকোটিক চাপ হ্রাস
৩. কৈশিকের পারমিয়াবিলিটি বৃদ্ধি
৪. লিম্ফ প্রবাহে বাধা
৫. সোডিয়াম ও পানি জমে যাওয়া
৭। (খ) হেমোরেজের ক্লিনিক্যাল ফিচার বর্ণনা কর।
উত্তর : (খ) Hemorrhage-এর Clinical Features :
১. রক্তপাত
২. দুর্বলতা
৩. মাথা ঘোরা
৪. ফ্যাকাশে ভাব
৫. দ্রুত নাড়ি
৬. নিম্ন রক্তচাপ
৭. ঠান্ডা ঘাম
৮. শক (Severe hemorrhage)
৭। (গ) হেমোরেজের চিকিৎসা পদ্ধতি বর্ণনা কর।
উত্তর : (গ) Hemorrhage-এর চিকিৎসা
১. রক্তপাত বন্ধ করা
২. চাপ দিয়ে রক্তপাত নিয়ন্ত্রণ
৩. ব্যান্ডেজ বা টুর্নিকেট (প্রয়োজনে)
৪. IV Fluid প্রদান
৫. Blood transfusion
৬. অক্সিজেন
৭. প্রয়োজনে অস্ত্রোপচার
৮. রক্তপাতের মূল কারণের চিকিৎসা
৮। সংক্ষেপে লিখ। (ক) এইডস (খ) ফাংগাস (গ) ইস্কিমিয়া (ঘ) সেল ইনজুরি (৬) টক্সিমিয়া।
উত্তর : সংক্ষেপে --
(ক) AIDS
Acquired Immunodeficiency Syndrome (AIDS) হলো Human Immunodeficiency Virus (HIV) দ্বারা সৃষ্ট রোগ, যা দেহের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ধ্বংস করে। এটি যৌনসংসর্গ, দূষিত রক্ত, সূঁচ এবং মা থেকে শিশুর মধ্যে ছড়ায়।
(খ) Fungus
ফাঙ্গাস হলো ইউক্যারিওটিক অণুজীব, যা ত্বক, নখ, চুল ও অভ্যন্তরীণ অঙ্গে সংক্রমণ ঘটাতে পারে। উদাহরণ: Candida albicans, Aspergillus fumigatus।
(গ) Ischemia
কোনো টিস্যুতে রক্ত সরবরাহ কমে যাওয়াকে Ischemia বলে। প্রধান কারণ হলো থ্রম্বোসিস, এম্বোলিজম ও অ্যাথেরোস্ক্লেরোসিস।
(ঘ) Cell Injury
শারীরিক, রাসায়নিক, জীবাণু, অক্সিজেনের অভাব বা বিষাক্ত পদার্থের কারণে কোষের গঠন ও কার্যকারিতার ক্ষতিকে Cell Injury বলে। এটি Reversible বা Irreversible হতে পারে।
(ঙ) Toxemia
রক্তে ব্যাকটেরিয়ার উৎপন্ন বিষাক্ত পদার্থ (Toxin) উপস্থিত হয়ে সারা শরীরে বিষক্রিয়া সৃষ্টি করলে তাকে Toxemia বলে। এর ফলে জ্বর, দুর্বলতা, নিম্ন রক্তচাপ এবং শক হতে পারে।
Make a comments as guest/by name or from your facebook:
Make a comment by facebook: