যেন অনেক কেঁদে আমার চেম্বারে এসেছে এরকম তার চোখের স্থিরতা, ২২ বছর বয়সী তৃষ্ণা নামের তিন বছরের বিবাহিত এক যুবতী।
আমার চেম্বারে সন্ধ্যাবেলা এসে বলল স্যার, আমার শরীরটা খুব দুর্বল লাগে, মাসিক হলেই প্রচণ্ড ব্যথা হয়, এমনভাবে ব্যথা যেন জরায়ুটা ছিঁড়ে যাবে। রক্তপাত হয় কেমন যেন এলোমেলো কখনো গাঢ়, কখনো উজ্জ্বল, মাঝে মাঝে বাদামী বর্ণের মত।
সে আরো বললো স্যার আমার স্বামী খুব ব্যস্ত মানুষ। আমার প্রতি যেন কোনো আকর্ষণ নেই, আমি ওকে ভালোবাসি, কিন্তু সে যেন দূরে সরে যায়।আমার শরীর চায় ভালোবাসা, কিন্তু লজ্জায় বলতে পারি না।
আমি তাকে বললাম সত্যটা বলো তো তোমার মাসিকের ব্যথার চাইতে কি মনের ব্যথা খুব বেশি, কথা শুনে তার চোখে জল জমে উঠল।
তৃষ্ণার কেস বিশ্লেষণে পাওয়া গেল,
মাসিকের সময় প্রচুর রক্তপাত, রঙ মিশ্র — dark & bright alternately।
Pelvic region অতিমাত্রায় sensitive।
Sexual desire বেশি কিন্তু suppressed তাতে অপরাধবোধ।
মাঝে মাঝে নিজেকে অযোগ্যতা মনে হয়, তবুও ভালোবাসার আকাঙ্ক্ষা প্রবল।
আমি তাকে Murex 1M 2 ডোজ দিলাম সাথে এক মাসের sac lac. একমাস পর আসতে বললাম, আর বললাম তৃষ্ণা, তুমি দোষী নও।
নারীর কামনা কোনো পাপ নয়, এটি জীবনশক্তিরই অংশ।
যখন সেই শক্তি দমন হয়, তখনই
uterine congestion,
chronic leucorrhea,
নারীর দমিত কামনা ও মাসিকের যন্ত্রণার অজানা সম্পর্ক।dysmenorrhea শুরু হয়।
ডা. আব্দুল্লাহেল কাফী
ক্লাসিক্যাল হোমিওপ্যাথ
আবিদ হোমিও হল, বগুড়া।
যে নারীর Sexual desire বেশি কিন্তু Sexual desire suppressed হয়, তাহলে নারীর শরীরে কি ধরনের শারীরিক এবং মানসিক সমস্যা দেখা দেয় তার বিস্তারিত।
নারীর Sexual desire (যৌন আকাঙ্ক্ষা) প্রাকৃতিকভাবে শরীরের জীবনশক্তি (vital energy)-এর একটি প্রকাশ।
কিন্তু যখন এই আকাঙ্ক্ষা বারবার দমন (suppression) করা হয় — মানসিক, সামাজিক বা নৈতিক চাপের কারণে — তখন তা শুধু মানসিক নয়, গভীর শারীরিক অসুস্থতার রূপ নেয়।
শারীরিক সমস্যা (Physical Disorders)
১. Uterine congestion (জরায়ুতে রক্তজমাট বা congestion):
যৌন আকাঙ্ক্ষা দমন করলে জরায়ুর দিকে রক্তপ্রবাহ অস্বাভাবিক হয়ে পড়ে।
ফলে দেখা দেয়—
নিচের পেটে ভারী ভাব।কোমর ব্যথা, pelvic pain।মাসিকের সময় রক্তপাত অনিয়মিত ও কষ্টকর (dysmenorrhea)।জরায়ু ও ডিম্বাশয়ে chronic inflammation।
২. Chronic Leucorrhea (সাদা স্রাব):
যৌন দমন থেকে নার্ভের টান ও hormonal imbalance হয়।
ফলে জরায়ু থেকে সাদা স্রাব বেড়ে যায়
মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, মুড সুইং হয়।
৩. Irregular Menstruation (অনিয়মিত মাসিক):
Hormonal control হয় Hypothalamus–Pituitary–Ovarian axis দিয়ে।
যখন sexual repression হয়, সেই axis ব্যাহত হয় →
মাসিক কখনো আগে, কখনো পরে আসে।
রঙ গাঢ়, কখনো বাদামী।
মাসিকের আগে স্তনে টান বা ব্যথা।
৪. Fibroid / Ovarian cyst tendency:
দীর্ঘদিনের emotional suppression → chronic pelvic congestion →
fibroid, cyst, endometriosis-এর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়।
মানসিক ও আবেগিক সমস্যা (Mental & Emotional Effects)
১. Depression ও Irritability:
দমনকৃত কামনা মস্তিষ্কে dopamine-serotonin imbalance ঘটায়।
ফলাফল — অকারণ কান্না, হতাশা, রাগ, নিজের প্রতি ঘৃণা।
২. Guilt & Self-blame (অপরাধবোধ):
নারী ভাবে “আমার এই অনুভূতি পাপ”, “আমি খারাপ মানুষ”
এই চিন্তা Self-esteem ভেঙে দেয়।
৩. Marital disharmony:
স্বামীর প্রতি দূরত্ব, অপ্রাপ্তির বেদনা
যৌন অনীহা বা উল্টো অতিরিক্ত আকাঙ্ক্ষা — উভয়ই সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করে
৪. Somatization:
যখন মন কাঁদে, শরীর তা ব্যথা দিয়ে প্রকাশ করে।
ঘাড় ব্যথা, মাথা ভার, পিঠে জ্বালাভাব।
কোনো শারীরিক কারণ ছাড়াই শরীরে নানা ব্যথা।
হোমিওপ্যাথিক দৃষ্টিতে (Homeopathic Viewpoint)
Sexual suppression হলো vital force-এর দমন।
এর ফলে রোগের বিকাশ হয় "Functional → Organic" পর্যায়ে।
এরকম নারীদের ক্ষেত্রে সাধারণত দেখা যায় এই ওষুধের প্রয়োগ:
Murex purpurea: কামনা আছে কিন্তু দমন; uterus sensitive; ভালোবাসা ও সহবাস চায় কিন্তু পায় না।
Sepia officinalis: যৌন আকাঙ্ক্ষা কমে যায়, মানসিকভাবে অবসন্ন, গৃহকর্মে উদাসীন।
Lachesis mutus: ঈর্ষা, দমন, বাম পাশের সমস্যা, কথাবার্তা থামাতে পারে না।
Platina: অহংবোধ, suppressed sexual emotion থেকে nervous irritability।
সারাংশে বলা যায়:
> নারীর যৌনতা কোনো লজ্জা নয়, এটি জীবনের স্বাভাবিক প্রবাহ।
যখন সমাজ, পরিবার বা নারী নিজেই এই শক্তিকে দমন করেন —
তখন মন ও শরীর উভয়ে প্রতিবাদ করে, এবং রোগের জন্ম দেয়।
-- ডাঃ কাজী সাইফ উদ্দীন আহমেদ
বি এস সি(বায়োকেমিস্ট্রি), ঢা.বি,
ডি এইচ এম এস (বোর্ড স্ট্যান্ড), ঢাকা
প্রভাষক,
ফেডারেল হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজ।
আমাদের লেখার কোন অংশ রেফারেন্স ছাড়া কপি বা শেয়ার সম্পূর্ণরুপে নিষিদ্ধ।
>Share by:

Make a comments as guest/by name or from your facebook:
Make a comment by facebook: